সোমবার | ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৮ পৌষ, ১৪৩২

সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রীসহ ১৬৮ জনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের নাম ছিল আসামী তালিকায়

জেলা প্রতিনিধি, মেহেরপুর: মেহেরপুরে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী সৈয়দা মোনালিসাসহ ১৬৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ বুধবার মামলার বাদী সদর উপজেলার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থী হাসনাত জামান আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলাটি প্রত্যাহার করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এহান উদ্দীন মনা এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘বুধবার মামলা বাদী হাসনাত জামাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের কাছে হাজির হয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন। পরে বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ দেন।’
এ সময় মামলার বাদী হাসনাত জামান বলেন, ‘আন্দোলনের সময় ৪ আগস্ট ছাত্রলীগের ছেলেরা আমাকে মারধর করে। আমাকে যারা মারধর করেছিল তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি, কিন্তু আমাকে না জানিয়ে বা ভুলবশত যে কোনোভাবে আমাকে বাদী করে এতজনের বিরুদ্ধে মামলাটা করা হয়েছে।’
‘পরে আমি তালিকা দেখার পরে বুঝতে পারি এখানে অনেক নির্দোষ, যারা কোনোভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়—এমন অনেকের নাম দেওয়া হয়েছে। এখানে ১৬৮ জনকে আসামি করা হয়েছিল কিন্তু আমি খেয়াল করে দেখছি যারা অপরাধী, আমাকে মেরেছিল তারা অনেকেই এখানে নেই। তাই আমি সজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাদী হলেও মামলার তালিকা সম্পর্কে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। যখন আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয় তখন আমাকে বলা হয়েছিল, আমি মার খেয়েছি সে জন্য আমার স্বাক্ষরটা লাগবে। যখন আমাকে মামলার তালিকা দেখানো হয় তখন যারা আমাকে মেরেছিল তাদের কয়েকজনের নাম ছিল।
‘মামলা হওয়ার পরে তালিকায় অনেক নির্দোষ নিরপরাধ মানুষ যাদের অনেককে আমি চিনিই না তাদের জড়ানো হয়েছে। যারা সাক্ষী আছে তারাও বেশির ভাগ নাম জানে না।’
মামলার সাক্ষী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের ওপর যারা হামলা করেছিল, আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলার পদক্ষেপ নিই। মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। যার মামলা নম্বর ১/২০২৪। পরবর্তীকালে মামলার তালিকায় দেখি অনেক মানুষ আছে যারা মারা গেছে, চাকরিজীবী আছে, অনেকে বিদেশে আছে তাদের নামও যুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তারা তো নিরপরাধ তাদের নামে কেন মামলা হবে। যেহেতু আমরা কোনো নির্দোষকে শাস্তি দিতে চাই না, আমরা কোনো অন্যায় সাক্ষী দিতে চাই না। তাই আমরা সকল সাক্ষী বাদীর সঙ্গে আলোচনা করে স্বেচ্ছায় মামলা প্রত্যাহার করেছি।’

© 2026 republicdhaka.com | About us | Privacy Policy | Terms & Condidtion
Developed by- SHUMANBD.COM