নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সোমবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে গ্রেপ্তারের পর তাদের রাতেই ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
আজ মঙ্গলবার তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করবে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেন মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তোফাজ্জল হোসেন।
তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে ঢাকা মহানগর আদালতে সোপর্দ করা হবে। দুজনেরই ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে। দুপুরের দিকে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ আগস্ট) রাতে ডা. দীপু মনিকে রাজধানীর গুলশানের বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে আটক করে ডিবি গুলশান বিভাগের একটি দল। তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর ও ঢাকায় মামলা রয়েছে। সেদিন রাতেই তাকে মোহাম্মদপুর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত ১৮ জুলাই চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুকে আসামি করা হয়।
অন্যদিকে, সোমবার দীপু মনি, তার স্বামী তৌফীক নাওয়াজ এবং বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
এছাড়াও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে সোমবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
২০১৪ সালে নেত্রকোনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফ খান জয়। এরপর জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। চার বছর এ দায়িত্ব পালনের পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। সবশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি।