মঙ্গলবার | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৯ পৌষ, ১৪৩২

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবন ও ঋণ নিয়ে যা বলছেন বিশ্লেষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সম্পর্কের সূচনা করছে ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবন হলেও ৭১ প্রশ্নে ক্ষতিপূরণের দাবি ছাড়া যাবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এদিকে বাংলাদেশ নিয়ে অভিযোগ তোলা ইতালির প্রধানমন্ত্রীও নতুনভাবে সম্পর্ক শুরু করতে আগ্রহী। আর যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের কাছে সমান তালে উন্নয়ন সহযোগিতা চাইছেন ড. ইউনূস।

পাঁচদিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সাথে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে নানা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের আলোচনা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকের সুযোগ রয়েছে। তবে ১৯৭১ প্রশ্নে ক্ষতিপূরণ দাবি জারি রাখতে হবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবির বলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করা মানেই কি সব ছেড়ে দিব? না, তা নয়। পাকিস্তানের সাথে যখন সম্পর্ক বজায় রাখব, তখন তাদের সাথে যে অনিষ্পন্ন বিষয় আছে সেগুলোও তুলবো।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশে শ্রমিক ভিসা কেনাবেচা হয় বলে অভিযোগ তোলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। শুরু হয় বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা জটিলতা। তবে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে নতুন সম্পর্ক শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

বাংলাদেশের আর্থিক সংস্কারের জন্য সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। তবে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততার বিষয় না থাকলে উপকারে আসবে না বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘এমন একটা ঋণ দিলো, দেখা গেল তার ৬০ ভাগ টেকনিক্যাল সাপোর্টের কথা বলে আবার তাদের কাছেই চলে গেল। তাদের লোক এসে বা অন্যান্য সরঞ্জামের মাধ্যমে তা যেতে পারে। আমার থাকল ৪০ শতাংশ। কিন্তু বছরের পর আমার পুরো টাকার সুদ টানতে হচ্ছে। এমন হলে লাভের বদলে লস হবে।’

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর কাছে ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান এবং যুক্তরাষ্ট্রের দাতা সংস্থা ইউএসএইডের প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান অধ্যাপক ইউনূস। বিশ্লেষকরা বলছেন, বহুপক্ষীয় বিশ্বে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার নীতিই অনুসরণ করতে হবে ইউনূস সরকারকে।

এছাড়াও জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টার্ক, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও কেরি কেনেডি হিউম্যান রাইটস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।

একে

© 2026 republicdhaka.com | About us | Privacy Policy | Terms & Condidtion
Developed by- SHUMANBD.COM