শুক্রবার | ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২ মাঘ, ১৪৩২

সরকারের কাছে সাগর-রুনি হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাড়ে ১২ বছর পেরিয়ে গেছে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনার। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার সময় ১১১ বার বাড়ানো হয়েছে। তবে তদন্তে অগ্রগতি নেই। সর্বশেষ গত ৩০ জুন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হক এর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন।

এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেছে সাংবাদিকমহল এবং তাদের বিভিন্ন সংগঠন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাগর-রুনি দুজনই ডিআরইউয়ের স্থায়ী সদস্য ছিলেন। তাঁদের হত্যাকাণ্ডের এত বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তের অগ্রগতি নেই। এ নিয়ে আমরা ডিআরইউ পরিবার খুবই হতাশ।

তাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর আশা থাকবে, তাঁদের কিভাবে হত্যা করা হয়েছে, কারা হত্যা করেছে, তাদের শনাক্ত করে জনসমক্ষে এনে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তাঁদের ছেলে মেঘ (১৭) বড় হচ্ছে; তার পাশে যেন সরকার দাঁড়ায় সেই আহ্বান রইল।’

গত ১৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড খুবই বেদনাদায়ক, খুবই নির্মম এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে কী পরিমাণ প্রহসন করা হয়েছে। বারবার তার (তদন্ত) প্রতিবেদনগুলা পেছানো হয়েছে।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডসহ এই ধরনের যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন হয়েছে—এই বিষয়গুলোর তদন্ত করতে হবে এবং সরকারের জায়গা থেকে যে ভূমিকা বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে ভূমিকা তা আমরা অবশ্যই পালন করব।’

তখন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের নতুন করে তদন্ত হবে কি না, জানতে চাইলে নাহিদ বলেন, ‘আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে এটার বিচার চাচ্ছি। এটা নিয়ে আমরা আর কোনো ধরনের প্রহসন, কোনো ধরনের টালবাহানা চাচ্ছি না।’

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাঁদের ভাড়া বাসায় খুন হন। তাঁদের একমাত্র ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ (৫) সে সময় বাড়িতে ছিল।

হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি।
মামলা করার পর শেরেবাংলানগর থানাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন দিন পর মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ায় মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল। মামলায় গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে দুজন জামিন পেয়েছেন। অন্যরা কারাগারে আছেন।

র‌্যাবের অতিরিক্ত এসপি খন্দকার মো. শফিকুল আলম মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১৯ সালের ৭ জুলাই তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মামলাটির বিষয়ে গতকাল র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক (মুখপাত্র) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, ‘সরকারের আইন উপদেষ্টাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। আমাদের অগ্রাধিকার তালিকায়ও আছে এটি। গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। আদালত এখন বন্ধ রয়েছে, খোলা হলে এর তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে বলা যাবে।’

একে

© 2026 republicdhaka.com | About us | Privacy Policy | Terms & Condidtion
Developed by- SHUMANBD.COM