বৃহস্পতিবার | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ | ১ মাঘ, ১৪৩২

‘ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে পারবেন না: রুহুল আমিন গাজী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্র করছেন অভিযোগ করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, ‘ষড়যন্ত্র করে গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে পারবেন না। ষড়যন্ত্র করে মানবিক মূল্যবোধকে নষ্ট করতে পারবেন না। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে সে বাংলাদেশকে কলুষিত করার ক্ষমতা আপনার নেই। সুতরাং সমস্ত ষড়যন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসুন।’
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতাবিরোধী সব কালাকানুন বাতিল, সাগর-রুনিসহ সব সাংবাদিকদের হত্যার বিচার ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের’ দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএফইউজে সভাপতি এসব বলেন। সমাবেশটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ পতনের পর কোনো দাবি-দাওয়ার জন্য রাজপথে নামার কথা না। তবে দুঃখের বিষয়, সাগর-রুনি হত্যার বিচার চাইতে আমাদের রাজপথে নামতে হচ্ছে। সাগর-রুনির হত্যার বিচার চাইতে হবে কেন? এটা নিয়ে এত টালবাহানা কেন? কেন আপনারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেন না? কেন কোনো পুলিশের ইনকয়ারি করেন নাই, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।’
বিএফইউজের সভাপতি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করতে হবে। সাংবাদিকদের সব প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়োগ দিতে হবে। সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠানে কোনো ভাড়া করার নিয়োগ আমরা মানব না।’
কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হচ্ছে উল্লেখ করে রুহুল আমিন গাজী এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি এসব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘হত্যা মামলা করতে হলে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে। শুধু শুধু একজনের নামে হত্যা মামলা করা আমরা ঠিক মনে করছি না। যার যেটুকু অপরাধ তার সেটুকুই শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু হত্যা মামলার মতো মামলা করতে হলে আপনাকে যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করে মামলা করতে হবে।’
বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার ১২ বছর হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা কোনো বিচার পাইনি। যেহেতু দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে, তাই বর্তমান সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। কারণ এই হত্যাকাণ্ডে ফ্যাসিবাদী সরকার জড়িত। সাংবাদিকদের কণ্ঠ বন্ধ করার যত কালাকানুন আছে, তা বাতিল ও সাংবাদিক সুরক্ষা আইন যেমন চাই, একইভাবে আর কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে যেন কোনো সাংবাদিক আহত না হয়, সেটাও চাই।’
ত্যাগী সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা খবর ছড়িয়ে সাংবাদিক সামাজকে কলুষিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিএফইউজে মহাসচিব। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের পতনের আগেও রাস্তায় গুলির সামনে দাঁড়িয়ে আমরা সমাবেশ করেছি। তখন বলেছিলাম, ছাত্রদের ওপর গুলি বন্ধ করো, না হয় আমাদের ওপর গুলি করো। রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন করলেও কোনো দিন দলদাসের মতো কাজ করিনি। তারপরও কিছু লোক ত্যাগী সাংবাদিকদের কলুষিত করছে।’
একটি পত্রিকা তার নামে বড় করে প্রথম পাতায় লিখেছে তিনি নাকি চাঁদাবাজি করেন- এমন সংবাদে হতাশা প্রকাশ করে বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, ‘কখনো কারও কাছ থেকে এক কাপ চা খাইনি, সারা জীবন সংবাদের পেছনে ছুটেছি। এত কিছু করার পরও এমন খবর শুনলে কষ্ট লাগে। এটাই কি সাংবাদিকতা! আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ যাচাই করে প্রমাণ করা গেলে নাকে খত দিয়ে দেশ থেকে চলে যাব। আমি আল্লাহর কাছে বলব, এই অভিযোগের একটিও যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে আমি যেন ধ্বংস হয়ে যাই।’ এমন অনাকাঙ্ক্ষিত খবর সামাজিকভাবে তাকে বিব্রকর অবস্থায় ফেলেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রধান প্রতিবেদক মোরসালিন নোমানি বলেন, ‘আমি তিনটি বিষয়ে কথা বলতে চাই। প্রথমটি হলো সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড। ওই সময় বলা হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের ধরা হবে। কিন্ত ১২ বছরেও তা ধরা হয়নি। তৎকালীন পুলিশপ্রধানকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। দ্বিতীয়টি হলো স্বৈরাচার সরকারের পতনের সময় যে চারজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। আর তৃতীয়টি হলো ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের তেলবাজি করেছে যেসব সাংবাদিক, তাদের চিহ্নিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো সংবাদ সম্মেলন করতে না পারে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সাংবাদিক নেতা ও বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই শিকদার, ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম, বিএফইউজের সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহনেওয়াজ, সাংবাদিক নেতা শাহিন হাসনাত, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেক খান, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, ডিইউজে কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আলমগীর হোসেন, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ খান প্রমুখ।

© 2026 republicdhaka.com | About us | Privacy Policy | Terms & Condidtion
Developed by- SHUMANBD.COM