নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মাদ শামীম আখতারকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাকে তাঁর মূল পদ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে রিজার্ভে নেয়া হয়েছে। নজিরবিহীনভাবে প্রায় পাঁচ বছর গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব পালন করেন তিনি। শামীম আখতারকে সরিয়ে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গণপূর্ত মেট্টো জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে। তিনিও বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা।
২৮ অক্টোবর সকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তাসনিম ফারহানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে মোহাম্মদ শামীম আখতারকে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) পদে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে মো. খালেকুজ্জামন চৌধুরীকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেয়া হয়।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর দুপুরে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন মোহাম্মদ শামীম আখতার। বিকেলে সহকর্মীরা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রুটিন দায়িত্বের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে। তিনি দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরে নজিরবিহীনভাবে প্রায় পাঁচ বছর চলতি দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ শামীম আখতার। যিনি নারায়ণগঞ্জের একজন গদিনশীন পীর। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নানা বিতর্ক রয়েছে। সুনির্দিস্ট দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তিনি টিকে ছিলেন। অধিদপ্তরে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে পোস্টিং ও টেন্ডার বাণিজ্য ছিল ওপেন সিক্রেট। সম্প্রতি এ সিন্ডিকেটের হোতারা তার চাকরি স্থায়ীকরণ ও প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। আগামী ডিসেম্বরে তার চাকুরির মেয়াদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তার আগেই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
মোঃ খালেকুজ্জামান চৌধুরী ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদপুর থেকে ১৯৮৫ সালে এসএসসি এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর থেকে ১৯৮৭ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি মোনাশ ইউনিভার্সিটি, অষ্ট্রেলিয়া হতে ২০১৫ সালে এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন।
তিনি ১৯৯৯ সালে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, ২০১২ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও পরবর্তীতে একই বছর ডিসেম্বর মাসে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে সরকারি দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি চাকরি ক্ষেত্রে অনেক সুনাম অর্জন করেন। তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে ২৮/১০/২০২৫ তারিখে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
চাকরিরত অবস্থায় তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন খন্ডকালীন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি সৌদিআরব, ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলংকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি দেশ-বিদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি লিয়েনে কর্মরত অবস্থায় অস্ট্রেলিয়াতে অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ কাজ এবং প্রকিউরমেন্টে ও অন্যান্য নির্মাণে নানাবিধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তিনি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর আজীবন ফেলো। চাকরি ছাড়াও তিনি বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক।