নিজস্ব প্রতিবেদক: ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইএম কাঠের কারখানার প্ল্যান্ট আবার চালু হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনা সরকারি অফিসের দরজা, জানালাসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরি শুরু হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের উদ্যোগেই নতুন প্রাণ পাচ্ছে এই কাঠের কারখানা বিভাগটি।
প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার জানান, সরকারি অফিসগুলোতে দরজা, জানালাসহ কাঠের আসবাবপত্র মানসম্পন্ন হচ্ছেনা বলে প্রায়ই অভিযোগ আসে। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশের ৫৬০টি মডেল মসজিদে সরবরাহ করা আসবাপত্র নিয়েই সবচে’ বেশি অভিযোগ এসেছে। নিজের পরিদর্শন অভিজ্ঞতা থেকেই বলেছেন, এগুলো মান সম্মত হয়নি। এসব কারনেই ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাটি আবারও চালুর উদ্যোগ নেন তিনি।
গণপূর্ত ইএম কাঠের কারখানাটি মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে অবস্থিত। এক সময়ে এই কারখানায় ১২শ’ কর্মচারী ছিল। যার মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪ জন কর্মচারী রয়েছেন। এসব কর্মচারীদের চলতি বছরে অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। পুরোনো কারখানার যন্ত্রপাতি ২০২১ সালে অকশনে বিক্রয় করে দেয়ার ফলে এখানে কোন আসবাবপত্র তৈরি হতো না। গত ১০ বছরের বেশিরভাগ সময়ই দেশের বড় বড় ফার্নিচার কোম্পানির কাছ থেকে ফার্নিচার কিনে প্রত্যাশী সংস্থাগুলোকে সরবরাহ করার কাজ করেছে ইএম কাঠের কারখানা বিভাগ।
বিলুপ্ত ইএম কাঠের কারখানার প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করার জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য দরপত্র আহবান করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএম কাঠের কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই যন্ত্রপাতিগুলো এসেছে। জীর্ণ-শীর্ণ হয়ে পড়া কেগিুলো সংস্কার ও নির্মাণের কাজ করছে মিরপুর গণপূর্ত বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যে টিম্বার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, মাল্টিব্লেড রিবস, স্লাইডিং টেবিল স মেশিন, সারফেস প্লেনার মেশিন, মোল্ডার মেশিন, অটোমেটিক কর্ণার জয়েন্ট মেশিন, এ্যাসেম্বলার, অটোমোটেড গ্রাস সেন্ডার মেশিন, সিএনসি রাউটার ও ডাস্ট কালেক্টর মেশিন কেনা হচ্ছে। নতুন প্ল্যান্ট চালুর জন্য ইতিমধ্যে ৩৫ জনের একটি সেটআপ নিয়োগ দেয়ার কাজ চলছে। যা রাজস্ব খাত অথবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
গণপূর্তের ইএম কাঠের কারখানাটি চালু হলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোতে মান সম্মত দরজা, জানালা, চৌকাঠ ছাড়াও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ সম্ভব হবে। এতে প্রত্যাশী সংস্থা থেকে কাঠের গুনগত মান নিয়ে অভিযোগ তোলার আর কোন সুযোগ থাকবে না। গণপূর্ত অধিদপ্তরও তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে আশা করছেন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার।