সোমবার | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৫ মাঘ, ১৪৩২

শিশু মুনতাহা হত্যা: গৃহশিক্ষিকাসহ ৪ জনের পাঁচ দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের কানাইঘাটে শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিন (৫) হত্যা মামলায় সাবেক গৃহশিক্ষিকাসহ চার জনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুল আরেফিন জিহাদ আদালতে আসামিদের হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী মো. আবু জাহের বাদল ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ ছাড়া মুনতাহা নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা শামীম আহমদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা করেন। সোমবার (১১ নভেম্বর) এ মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে শুনানি শেষে বিচারক মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার এসআই শামসুল আরেফিন জিহাদ। তিনি বলেন, আসামিদের প্রত্যেকের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

নিহত মুনতাহা কানাইঘাট সদরের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে।

রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন- কানাইঘাট থানার বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের আলিফজান (৫৫), তার মেয়ে শামীমা বেগম মার্জিয়া (২৫), একই এলাকায় ইসলাম উদ্দিন (৪০) ও নাজমা বেগম (৩৫)।

জানা যায়, মুনতাহার নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে আলোচনা চলছিল। শিশুটিকে উদ্ধারে পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পরিবারসহ কয়েকজন প্রবাসী। এর মধ্যে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। ৩ নভেম্বর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরে শিশু মুনতাহার মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ নভেম্বর মুনতাহার বাবা মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না মর্মে থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে মামলার এজাহার দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে শামীমাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে শামীমা বলেছেন, ওই দিন সন্ধ্যায় তাদের ঘরে মুনতাহাকে গলা টিপে ও বস্তাচাপা দিয়ে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। আমরা তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি।

এমএফ

© 2026 republicdhaka.com | About us | Privacy Policy | Terms & Condidtion
Developed by- SHUMANBD.COM