আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কিউবায় সামুদ্রিক ঝড় হ্যারিকেন রাফায়েল এখন ক্যাটাগরি ৩ মাত্রার শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে, যার কারণে পুরো দেশজুড়ে চলছে বিদ্যুৎ ব্ল্যাকআউট। বুধবার (৬ নভেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা নাগাদ, কিউবার রাজধানী হাভানা থেকে ১৩৫ কিলোমিটার (৮৫ মাইল) দক্ষিণে এবং কিউবার ‘আইল অব ইয়ুথ’ এর পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল রাফায়েল। সন্ধ্যায় তা উপকূলে আছড়ে পড়ে।
জাতীয় আবহাওয়া সেন্টারের (এনএইচসি) মতে, ঘূর্ণিঝড়ের বেগ ছিল ১৮৫ কিমি/ঘণ্টা (১১৫ মাইল/ঘণ্টা)। হারিকেন রাফায়েলের প্রভাবে ‘জীবনহানিকর জলোচ্ছ্বাস’, তীব্র বেগে বাতাস, আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। যেটিতে প্লাবিত হতে পারে দ্বীপ রাষ্ট্রটির পশ্চিমাঞ্চল।
এনএইচসি সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, পশ্চিম কিউবায় জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ জলোচ্ছ্বাস, শক্তিশালী বাতাস এবং তীব্র বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। কিউবার আর্মতিসা এবং পিনার দেল রিও প্রদেশগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি আঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ শুরু হয়েছে।
কিউবায় পৌঁছার আগে হারিকেন রাফায়েলের প্রভাবে ক্যামেন দ্বীপপুঞ্জ এবং জ্যামাইকায় মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এদিকে, কিউবা সরকার একটি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্ল্যাকআউটের ঘোষণা করেছে।
কিউবা ইতিমধ্যে গত মাসে হারিকেন অস্কারের কারণে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। পূর্ব কিউবায় এর আঘাতে অন্তত ছয়জনের প্রাণহানি ঘটায়। সেই ক্ষতি এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। এখন রাফায়েল আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে, যা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
হাভানার বাসিন্দাদের জন্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব এখনো তীব্র, এবং শহরজুড়ে তীব্র বৃষ্টিপাত ও শক্তিশালী বাতাস বয়ে যাচ্ছে। কিউবার অন্যান্য অঞ্চলেও পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষ থেকে আপৎকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উদ্ধার কর্মীরা কাজ শুরু করেছে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে দাতা সংস্থাগুলি কিউবার জনগণের সহায়তার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং অবকাঠামোগত সংকটের কারণে উদ্ধার কাজ সম্পাদন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএফ