নিজস্ব প্রতিবেদক: ছাত্রজনতার আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনে (বিএসইসি) চাঁদা চেয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে তাদের মধ্য থেকে একজনকে পিটুনি দিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে ২০ থেকে ৩০ জন দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক প্রবেশ করে। প্রথমে তারা সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দপ্তরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। এরপর তারা চেয়ারম্যানের দপ্তরসহ অন্যন্যা দপ্তরে ভাঙচুরের জন্য উদ্যত হন। একপর্যায়ে তারা সংস্থাটির অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।
বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় বিএসইসির চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান তার কক্ষেই অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে দুর্বৃত্তরা জোর করে চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে পড়ে। সেখানে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক বলে পরিচয় দেয়। এরপর তারা তাদের বিভিন্ন অনৈতিক দাবিদাওয়া তুলে ধরে। এ সময় চেয়ারম্যান মহোদয় অনেক ধৈর্য্য ও দক্ষতার সাথে তাদের মোকাবেলা করেন।
একপর্যায়ে তাদের মধ্য থেকে দু’জন বিএসইসির এক কর্মচারীকে আলাদা করে অফিসের নিচে নিয়ে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। এমনকি চাঁদা না দিলে কার্যালয়ে অবস্থান করা সমন্বয়কদের সরিয়ে নেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
পরে সুবিধা করতে না পেরে সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া দুর্বৃত্তরা কর্তৃপক্ষকে হুমকি দিয়ে একে একে দপ্তর ত্যাগ করতে থাকে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একজনকে আটক করেন। পরে পিটুনি দিয়ে তাকে সেনাবাহিনীর হাতে সোপর্দ করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতির তথ্য-উপাত্তের আলোকে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে মর্মে জানিয়েছেন।