নিজস্ব প্রতিবেদক: গণপূর্ত অধিদপ্তরের কেলেঙ্কারি থেকে পাবনাকে যেনো আলাদা করা যাচ্ছেই না। এর আগে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশ কেলেঙ্কারির পর এবার ট্রেজারি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের বেশির ভাগ কাজে রেট শিডিউলের দ্বিগুণের বেশি ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। আর এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। তারা বলেছে, এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) রেহেনা খাতুনের সভাপতিত্বে শিগগিরই প্রকল্পটির মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সভার কার্যপত্র সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবে দেখা যায়, সম্প্রতি এক হাজার ৮৫৮ মিটার দোতলা পাবনা ট্রেজারি ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে আট কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
ভবন নির্মাণে প্রতি বর্গমিটারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৩৩৩ টাকা। অথচ ২০২২ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেটশিডিউলে দোতলা ভবনটি নির্মাণে প্রতি বর্গমিটারে ২৩ হাজার ২৮৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে সাবস্টেশন ইকুইপমেন্ট অঙ্গের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অথচ রেটশিডিউলে এক লাখ ৮৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
৪০ কেভিএ জেনারেটর অঙ্গের ব্যয় ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছে, অথচ এ কাজে রেটশিডিউলে ১৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা উল্লেখ করা আছে। এক হাজার ৬০০ কেজির তিনতলার লিফটের জন্য রেটশিডিউলে এক কোটি দুই লাখ টাকা উল্লেখ থাকলেও প্রকল্পে দোতলার লিফট কিনতে এক কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পটিতে ১০০৩.৩৪ বর্গমিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণে ৬২ লাখ ৪২ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। রেটশিডিউল অনুযায়ী এ কাজে ২৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা। ২৯২.৬৮ মিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে ৮৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।
রেটশিডিউল অনুযায়ী এ কাজে ৬৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা। ১৪০.২২ মিটার কম্পাউন্ড ড্রেন নির্মাণে আট লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। রেটশিডিউল অনুযায়ী এ কাজে চার লাখ ৪৭ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা।
পরিকল্পনা কমিশনের প্যামেস্টিক উইংয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটিতে যে ব্যয় ধরা হয়েছে তার অর্ধেক খরচে এই কাজ করা সম্ভব। প্রকল্পটিতে যে অত্যধিক ব্যয় কেন ধরা হয়েছে তা পিইসি সভায় জানতে চাওয়া হবে এবং প্রতিটি অঙ্গের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনা হবে।
অত্যধিক ব্যয় প্রস্তাবের বিষয়ে পাবনা জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাদের ট্রেজারি ভবনের খুবই খারাপ অবস্থা। আমরা গণপূর্তকে চিঠি দিয়েছিলাম। তারা সেই আলোকে প্রস্তাব দিয়েছে। যদি বেশি ব্যয় ধরা হয় তাহলে সেটা যৌক্তিক হওয়া উচিত। অত্যধিক ব্যয় প্রস্তাবের বিষয়ে আমাদের গণপূর্ত বিভাগই ভালো বলতে পারবে।’
এ বিষয়ে পাবনা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির বলেন, ‘আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। আমি এখানে দায়িত্বে আসার আগে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) হয়েছে।’