মঙ্গলবার | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৯ পৌষ, ১৪৩২

‘তোমরা আমাকে কাউন্সিলর করো, তোমাদের ৫০ লাখ দেব’

স্পোর্টস ডেস্ক: গত মাসে যখন বাফুফে নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তরফদার রুহুল আমিন, তখনো পরিষ্কার জানিয়েছিলেন, তিনি চট্টগ্রাম আবাহনীর কেউ নন। এর আগে ক্লাবটির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যখন প্রিমিয়ার লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর দল গঠন নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা, তখন তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে দূরে সরে যান রুহুল আমিন। আবার যখন প্রয়োজন পড়ে, তখন আবার তাদেরই দুয়ারে পা রাখলেন। চট্টগ্রাম আবাহনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের নাকি রুহুল আমিন নিজেই বলেছেন, ‘আমাকে বাফুফে নির্বাচনের জন্য কাউন্সিলর করে দাও, আমি তোমাদের ৫০ লাখ টাকা দেব।’

যখনই তিনি কাউন্সিলর হয়ে গেলেন, বদলে গেল তাঁর চেহারা! এখন চট্টগ্রাম আবাহনী হন্যে হয়ে তাঁকে খুঁজছে, নিয়মিত ফোন, মেসেজ দিচ্ছেন ক্লাবটির দুর্দিনের নাবিক হওয়া তিন ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি, মামুনুল ইসলাম মামুন ও রেজাউল করিম রেজা। কিন্তু রুহুল আমিনের কাছ থেকে তাঁরা কোনো সাড়া পাননি।

নিশ্চুপ থাকা রুহুল আমিনের সঙ্গে আজকের পত্রিকার প্রতিবেদকের কথা হলো তিন দিন আগে। ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাউন্সিলর বনে যাওয়া এবং কাউন্সিলর হওয়ার পর কেন এমিলি-মামুনুলদের এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি—তা জানতে চাওয়া হয়েছিল তাঁর কাছে। রুহুল আমিন অস্বীকার করেননি টাকা দেওয়ার বিষয়টি। তবে তিনি যে দল গঠনে আগ্রহী নন, সেটিও তাঁর কথায় পরিষ্কার, ‘এত বছর তো চালালাম। এবার আর পারছি না। আগেও আমি বলেছি ক্লাব অফ রাখতে। তারা শুরু করতে চাইলে করুক। আমার ব্যবসার অবস্থা ভালো না। আমি টাকাপয়সা কীভাবে দেব?’ কিন্তু কাউন্সিলর করে দেওয়ার পর টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কী হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে রুহুল আমিন বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বলেছি তাদের শুরু করতে। তারা শুরু করুক, তারপর না হয় দেব। সমস্যা নেই, আমি কিছু দেব।’

রুহুল আমিনের এই ‘কিছু দেওয়া’র প্রতিশ্রুতিতে ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন না জাহিদ হাসান এমিলি। জাতীয় দলের সাবেক এই স্ট্রাইকারের পাল্টা প্রশ্ন, যিনি কিনা একটা ক্লাবের দুঃসময়ে দূরে সরে গেলেন, তিনি আবার গোটা দেশের ফুটবলের অভিভাবক (বাফুফে সভাপতি) হবেন কী করে? রীতিমতো ক্ষোভই উগরে দিলেন এমিলি, ‘তিনি (তরফদার) আমাদের বললেন, “ভাই, আমাকে তোমরা কাউন্সিলর করো, আমি তোমাদের ৫০ লাখ টাকা দেব।” এরপর আমি, মামুন মিলে উচ্চ মহলের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে কাউন্সিলরশিপ করে দিলাম। এখন আর তাঁর খবর নেই। ফোন দিই, তিনি ফোন ধরেন না। মেসেজ দিই, রিপ্লাই দেন না। তিনি ফোন ধরে বলুন, কবে দেবেন বা কখন দেবেন।

কিছুই বলছেন না। তিনি তো চট্টগ্রাম আবাহনীকে সামনে রেখেই ব্যবসা-বাণিজ্য—সবকিছু গুছিয়েছেন। এখন যখন সরকার পরিবর্তন হয়ে গেছে, তখন তিনি সরে গেছেন। এখন আমরা যেখানেই যাই, চট্টগ্রাম আবাহনী শুনলে পৃষ্ঠপোষক এগিয়ে আসতে চায় না।’

১৮ অক্টোবর শুরু হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগ। অংশ নিতে যাওয়া ১০ দলের ৯ দলই নিজেদের পুরোপুরি গুছিয়ে নিয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম আবাহনীর সামনে শুধুই আঁধার। এমিলিরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পৃষ্ঠপোষক জোগাড় করতে। যা-ও রুহুল আমিনের কাছে ৫০ লাখ পাবেন বলে ধরে রেখেছিলেন, সেটাও এখন পাবেন কি না নিশ্চিত নয়। দলটির হয়ে মাঠে নামতে উন্মুখ হয়ে থাকা স্ট্রাইকার তৌহিদুল আলম সবুজের কণ্ঠে স্পষ্টতই হতাশা, ‘কী করব বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে খেলাই ছেড়ে দিতে হবে!’

এমএফ

© 2026 republicdhaka.com | About us | Privacy Policy | Terms & Condidtion
Developed by- SHUMANBD.COM