আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাস ইসা ও বন্দরনগরী হোদেইদাকে লক্ষ্য করে এই হমালা চালায় নেতানিয়াহুর দেশ। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বরাতে বলেছে, ইয়েমেনে হুতি যোদ্ধাদের ওপর একের পর এক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল বাহিনী। হুতিরা ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার কথা বলার একদিন পর এই হামলা হল। হামলার ফলে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।
হুতি সংশ্লিষ্ট আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, রোববার এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনী বলেছে, রাস ইসা ও হোদেইদাহ বন্দরের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সমুদ্র বন্দর স্থাপনাগুলোতে কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এদের একজন বন্দর কর্মী এবং তিনজন বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিমান হামলার কারণে হোদেইদাহের বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা গেছে।
ইরান-সম্পর্কিত গোষ্ঠীটি গত বছরের নভেম্বর থেকে ইসরায়েলে এবং লোহিত সাগর, এডেন উপসাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে ইসরায়েল-সংযুক্ত জাহাজে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলাকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতির প্রচারণা হিসাবে বর্ণনা করেছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, “গত এক বছর ধরে, হুতিরা ইরানের নির্দেশে এবং অর্থায়নে এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের সহযোগিতায় ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ এবং নৌ চলাচলের বৈশ্বিক স্বাধীনতাকে ব্যাহত করেছে।”
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে রোববারের হামলার নিন্দা করেছে। মুখপাত্র নাসের কানানি এই হামলাকে “অমানবিক” বলে অভিহিত করেছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের “অপরাধকে” পুরোপুরি সমর্থন করছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এমএফ