রবিবার | ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৭ পৌষ, ১৪৩২

৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে সালিশের কথা বলে ডেকে নিয়ে রিকশাচালককে ‘পিটিয়ে হত্যা’

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে সালিশের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার ফতেয়াবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রিকশাচালকের নাম ছিদ্দিকুর রহমান (৪৫)। তিনি ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামের গাবুদ্দিবাড়ির মৃত আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের বাড়ির আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫) আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়ে আসার পথে আবু বকর ছানাউল নামের এক শিক্ষার্থীকে অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে মারধর করে আমির মেম্বারের দুই ছেলে জুয়েল হোসেন ও সোহাগ। এ ঘটনায় পরপরই আবু বকর ছানাউল দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ করায় আমির মেম্বার লোকজন নিয়ে হামলা করতে আসে আবু বকর ছানাউলদের বাড়িতে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সমাধানের কথা বললে আমির মেম্বার সবাইকে সালিশ বৈঠক বসাতে বলেন। কথা ছিল শুক্রবার সকাল ৮টায় বসবে সালিশ বৈঠক। এই সালিশে গাবুদ্দিবাড়ির লোকজন যায়। সালিশে যাওয়ার পরপরই আমির মেম্বার ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা ব্রাহ্মণপাড়ার জহিরের নেতৃত্বে কয়েকশ অস্ত্রধারী গাবুদ্দিবাড়ির লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় নিহত হয় ছিদ্দিকুর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাইচাপাড়া বাজারে বিজয়োল্লাস করেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা। এ সময় সাইচাপাড়া বাজারে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য আমির মেম্বারের অফিসে শেখ হাসিনার ও দেবিদ্বারের এমপির ছবি সরাতে বলে। আমির মেম্বারের ছবি না সরালে ছাত্র-জনতা তার অফিস থেকে ওই ছবিগুলো নামিয়ে কিছু চেয়ার টেবিল ভাঙচুর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমির মেম্বার ভাঙচুরকারীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
নিহত ছিদ্দিকুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাইয়ের জন্য অঝোরে বিলাপ করছেন তার বোন মায়া আক্তার। একটু পরপর তিনি বলছেন, আমার ভাই কিছু করে নাই। মেল (সালিশ) দেখতো গেছিল। কত কষ্ট পাইছে আমার ভাই। তারা মেরে ফেললো আমার ভাইকে। আমার ভাই তাদের কাছে একটু পানি চাইছিল। তারা আমার ভাইকে একটু পানিও দেয় নাই।’
সাইচাপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আয়েজ ও তানবীর বলেন, ‘আমরা আহতদের দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। হাসপাতালে বর্তমানে ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান বেলা ১১টায় মারা যান।’
অভিযুক্ত আমির মেম্বারের মোবাইলে কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। তাই ঘটনার ব্যাপারে তার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন মিয়া বলেন, ‘একজন নিহতের ঘটনা সঠিক। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

© 2026 republicdhaka.com | About us | Privacy Policy | Terms & Condidtion
Developed by- SHUMANBD.COM